সরকারি ত্রান বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ রাইপাড়া ইউনিয়নে - মানবাধিকার বার্তা

Breaking

Breaking News

Comments

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

সরকারি ত্রান বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ রাইপাড়া ইউনিয়নে

মানবাধিকার বার্তা  রিপোর্ট  দোহার, ঢাকাঃ বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সমান ভাবে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে করোনার ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম এবং দুর্নীতি। সবচেয়ে বেশি ত্রাণ সামগ্রী আত্নসাৎ এর অভিযোগ স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবার হুশিয়ার দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। এমন নির্মম বাস্তবতায় বিশ্লেষকদের মতামত, এাণ আত্নসাৎ কারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। এরপরও চলছে অনিয়ম এবং দুর্নীতি।

দেশের অন্য জেলার মতো এবার ঢাকা জেলার দোহার থানার ৩নং রায়পাড়া ইউনিয়নে দেখা দেই এমন অনিয়ম। অনিয়ম হয়েছে, তা স্বীক করেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পাচ্ছে দেশের প্রায় সকল মানুষ। তেমনি করোনা ভাইরাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর পাশে রয়েছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তার নেতৃত্বে এই ত্রাণ উপহার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়৷ এর পূর্বেও প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রাণ সামগ্রী পাঠান৷ তারই ধারাবাহিকতায় ৩রা মে দোহার থানার ৩নং ইউনিয়ন পরিষদে ৮৫০ বস্তা ত্রাণ পাঠানো হয়। যার মধ্যে চাউল,ডাল,তেল,ছোলা আলু রয়েছে।

৮৫০ বস্থা ত্রাণ আসার পর ৩০০ বস্তা ত্রাণ নিয়ে নেন স্থানীয় নেতা কর্মীগন৷ নেতা কর্মীদের দাবি ৮৫০ ত্রাণ থেকে ৩০০ ত্রাণ তাদের মাধ্যমে দিবেন।

ঘটনা ঘটে এখানেই..!

ইউনিয়নে ৮৫০ বস্তা ত্রাণ উপহার আসলে,এই ৮৫০ বস্তা থেকে ৩০০ বস্তা নেতা কর্মীদের দেবার পরেও বাকি থাকে ৫৫০ বস্তা ত্রাণ৷ ৫৫০ বস্থা থেকেও আবর ভাগ বসিয়ে নেন এসব নেতা কর্মীগণ।

৩নং ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারি ২০ বস্তা করে  ২৮০ বস্থা ত্রাণ  ভাগ বন্টন করে নেন। বাকি ২০ বস্তা কোন ওয়ার্ডে বেশি নিয়েছেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যা নুরুল ইসলাম।

৩০০ বস্তা নেতা কর্মীগন নেবার পরও ৫৫০ বস্তা ত্রাণ থাকে। যা চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭০ বস্তা করে দেন৷ কিন্তু ওয়ার্ড মেম্বারদের অভিযোগ তারা প্রতি ওয়ার্ডে ৭০ বস্তা করে ত্রাণ পাননি৷ কোন ওয়ার্ডে ৪৫ বস্তা অাবার কোন ওয়ার্ডে ৫০ বস্তা করে পেয়েছে।

শুধু তাই নয়। এই ৪৫,  ৫০, ৭০ বস্তা থেকেও ভাগ দিতে হয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের।

বিষয়টি অনুসন্ধান করা হলে স্থানীয় কিছু নেতা কর্মীগন বলেন হ্যাঁ!  অামরা ২০ বস্তা করে ত্রাণ পেয়েছি যা অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই বিতরণ করা হয়েছে। অাবার কিছু নেতা কর্মী বলেন না অামরা ২০ বস্তা করে ত্রাণ পাইনি। এই গুলো সব বানানো মিথ্যা কথা।

৩০০ বস্তা ত্রাণ দেওয়ার নেই সঠিক হিসাব আবার অন্য দিকে ৫৫০ বস্তারও সঠিক রেকর্ড দেখাতে পারছেন না চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।

ত্রানের সামগ্রী নিতে এসে অসহায় মানুষ হচ্ছেন বিভিন্ন ভাবে হয়রানি।  গ্রাম মহিলা পুলিশ থাকা সত্ত্বেও গ্রাম পুলিশ পুরুষ মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করছে। পাশেই নেতা কর্মীগণ তাকিয়ে দেখছেন, এছাড়া নেই কোন নিরাপদ দূরত্ব।

শুধু তাই নয় টোকেন দেওয়া হয় এক দিন পূর্বে।টোকেন প্রাপ্ত সকলের মাঝে ত্রাণ দেবার পরেও স্থানীয় কর্মীদের কাছে থেকে যায় টোকেন। তাই প্রকৃত অসহায় লোক এক দিকে হাহাকার করছে অন্য দিকে টোকেন যাকেতাকে দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কাকে দিচ্ছে তারও নেই কোন হিসাব।

ত্রাণ দেওয়ার জন্য লিস্ট দেওয়া হয় দোহার উপজেলা অফিস থেকে।  লিস্ট দেখে যার মাল তাকে দিয়ে তার টিপ সই নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে৷ এসব নিয়ম থাকলেও সেই নাম না দেখে এবং টিপ সই না নিয়েই দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। পরবর্তীতে নিজেদের কর্মী দিয়ে টিপ সই দিয়ে জমা দিচ্ছে টিপ সই এর তালিকা।

এই বিষয় আরো অনুসন্ধান করে পাওয়া যায়,  এর পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা কর্মীদের হাত৷ তাদের প্রভাবে এসব অনিয়ম হচ্ছে বলে দাবি করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ৷ বিষয়গুলো উর্ধতন নেতা কর্মীদের বলার পরে স্থানীয় নেতা কর্মীগন কিছু দিন চুপচাপ থাকলেও আবার সময় মত  তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।

যে ১৪ জন নেতা কর্মীগণ ( ওয়ার্ড সভাপতি এবং সেক্রেটারি)  ৩০০ ত্রাণের টোকেন নিয়েছেন বলে জানান চেয়ারম্যান নরুল ইসলাম ।

তারা হচ্ছেনঃ-
১) জনাব নুরুল ইসলাম
২) জনাব অামির হোসেন
৩) জনাব আঃ ছালাম
৪) জনাব জসিম উদ্দিন
৫) মুক্তার হোসোন
৬) স্রিবাস ডক্টর
৭) কুটি মুজের
৮) দিপু ইসলাল
৯) অাক্কাস অালী
১০)সামসুর হোসেন
১১)জাহাঙ্গীর মুল্লা
১২)অালমাস হোসেন
১৩)অানোয়ার হোসেন
১৪) জাহাঙ্গীর আলম

স্থানীয় জনগন বলেন, যারা পায় তারা সব সময় পায়, আর যারা পায় না তাদের একদম দেওয়া হয় না৷ স্বজন প্রীতির অভিযোগও উঠে অাসে৷ তাদের দাবি যদি ত্রাণ নাই দিবে তাহলে অামাদের নাম আর ভোটার কার্ড নম্বর দিয়ে তারা কি করেন৷ না দিলে মানা করে দিক৷ অনেক দূর থেকে এসে রোজা রেখে সারা দিন বসে থাকি আর তারা অামাদের সাথে অমানবিক নিষ্ঠুর আচরন করে।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান নুরু ইসলাম এর সাথে কথা বললে, তিনি জানান কিছু অনিয়ম হয়েছে। এবং ওয়ার্ড মেম্বারদের হাতে ত্রান না বুঝিয়ে দিয়ে ভুল হয়,যার কারনে একই পরিবারের কয়েক জন পেয়েছে এবং অসহায় অনেকে বাদ পরেছে। তিনি আরও বলেন, এর পর আমরা সতর্ক থাকবো এবং সঠিক ভাবে যাচাই বাচাই করে এান বিতরণ কার্যত্রম পরিচালনা করবো।

সরকারের নির্দেশনা অনুসারে এসব অপকর্ম যেন না হয় তার জন্য এন এস আই গোয়েন্দা লোক পর্যবেক্ষণ করার জন্য পাঠানো হয়৷ তদন্ত করে পাওয়া যায় তারা কেউ  উপস্থিত ছিলেন নাহ৷ উপস্থিত থাকার কথা এক জন ট্যাক অফিসার। অফিসার কার্যক্রমের সময় থাকা  কিছু টিপ সই দিয়ে তাদের দেখানো হয় সঠিক ভাবে কার্যক্রম হচ্ছে৷ কিছু সময় থাকার পর  টেক অফিসার চলে যায়, এর পরই হয় অনিয়ম।



টেক অফিসারের দায়িত্ব, সে সকল বিষয় সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে ত্রাণ কার্যক্রম শেষ করে স্বাক্ষর দিয়ে যাবেন কিন্তু স্বাক্ষর দেওয়ার আগেই যাচাই না করে চলে যান টেক অফিসার ৷ আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান  স্থানীয় নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যগন৷
এব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আফরোজা আক্তার রিবার সাথে মুঠোফোনে কথা বল্লে তিনি জানান - এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার জানা নেই - তবে রাইপাড়া ইউনিয়নের ত্রান বিতরনে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Recent in Sports

Most Popular

Tags