এসডিপি মানবাধিকার বার্তা (দোহার):
যেন রুপকথাকে হার মানায়। আর সে রুপকার নায়ক দোহার থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ হোসেন ও দোহার থানা পুলিশ সদস্যরা।
গত ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টা বাজে। দোহারবাসি তখন ঘুমে বিভোর। জেগে রয়েছে শুধু দোহার থানা পুলিশ।এসময়ে জয়পাড়া বাজার ডিউটিরত অবস্থায় দোহার পুলিশের একটি টহল দল দেখতে পান ২ জন মহিলা এবং ১ পুরুষ অটো গাড়িতে করে প্রসব বেদনায় কাতরানো গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে দিশেহারায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
দায়িত্বে থাকা এ.এস.আই তুহিন পারভেজ ও তার ফোর্সসহ তাদের সহোযোগিতায় এগিয়ে আসেন। মহিলার প্রসব যন্ত্রণা দেখে বিষয়টি দোহার থানা ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন এবং অফিসার (তদন্ত) আরাফাত হোসেনকে জানালে,তাৎক্ষণিক সাজ্জাদ হোসেন দায়িত্বরত অফিসারকে সার্বিক সহোযোগিতার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও অবহিত করেন।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত ডাক্তার জানান, ডেলিভারিতে পর্যাপ্ত সুযোগ -সুবিধা নেই।রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এ সময়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ রোগীকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিকটস্থ জয়পাড়া ক্লিনিকে ভর্তি করান। রাত দুটো বাজে ওসি সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি ডাক্তার শিউলি আক্তারকে পুলিশের গাড়িতে করে জয়পাড়া ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয় ।অতঃপর রোগীকে চিকিৎসা শুরু করেন। এ সময়ে রোগীর অবস্থা অবনতি হওযায় জরুরীভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হলে 2 জন পুলিশ সদস্য মহিলাকে রক্ত দান করেন। এরা হলেন সাব-ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান এবং আরেকজন কনস্টেবল মোসলেম।পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল আনুমানিক বেলা পৌনে ২ঘটিকার সময় একটা কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তারা দুজনেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছে।
এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন জানান, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা মানুষের কল্যানে অব্যাহত থাকবে। চলমান মহামারীর এই পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনী সর্বদা যে কোন অবস্থায় মানুষের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।তিনি আরো বলেন, এই মহামারিতে আমরা জানিনা বাড়িতে ফিরে যেতে পারবো কিনা আমাদের মা-বাবা ছেলে সন্তানের কাছে। কিন্তু আমরা চাই আপনারা আপনাদের ছেলে সন্তান নিয়ে ভালো থাকুন।আপনাদের সেবা করার জন্য আমরা বাইরে রয়েছি।দয়া করে আপনারা সবাই ঘরে অবস্থান করুন নিরাপদে থাকুন সুস্থ থাকুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন