মানবাধিকার বার্তাঃ পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, ঢাকার দোহারের নয়াবাড়ী ধোয়াইর বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশ দিয়ে পদ্মা রক্ষা বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এর ফলে পশ্চিম ধোয়াইর এলাকার জনসাধারন চরম ঝুঁকিতে রাত দিন পাড় করছে, পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নিচু গ্রামগুলো। স্থানীয় জনসাধারণের দাবি এলাকাটিকে পদ্মার হাত থেকে রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই পদ্মা নদীর পেটে চলে যাবে ধোয়াইর বাজারসহ আশে পাশে বেশ কিছু এলাকা।
ধোয়াইর বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ দিন যাবত পদ্মা নদী শাসনে বাধ নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও ধীরগতিতে কাজ করার কারনে নয়াবাড়ী’র ধোয়াইর বাজারসহ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা ও কৃষিজমি সমূহ
চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।যে কোন সময় এসব এসব গ্রামীণ অবকাঠমো পদ্মা নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন তারা।
চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।যে কোন সময় এসব এসব গ্রামীণ অবকাঠমো পদ্মা নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় পিরু মিয়া বলেন, এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারনে দোহারের চর অঞ্চলের অভাবী মানুষগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তার মধ্যে গত কয়েক দিন যাবত ধোয়াইরে বাধ অতিক্রম করে তীব্রবেগে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে । শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের এমনিতেই কাজ নেই এখন কি করবে তারা। কোথায় যাবে ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করলে।
নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান যুগান্তরকে বলেন, চলমান মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বাধ অতিক্রম করে পানি গ্রামে প্রবেশ করেছে। এখনো মারাত্মক আকার ধারণ করেনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, পদ্মার পানি, তীর উপচে গ্রামে প্রবেশ করছে। তবে সড়ক- সেতু এখনো পানিতে তলিয়ে যায় নি।
অন্যদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র দোহারের মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট এলাকাটি তার আগের জৌলস হারিয়েছে, নেই লোক সমাগম। পদ্মার নদীর প্রবল ভাঙ্গনের মূখে পড়ে ছোট হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। করোনার কারনে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবন যাবন করছেন । আবার অনেকেই নিজ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
এ বিষয়ে মৈনট ঘাটের ইজারাদার আবুল কাসেম মেম্বার বলেন, সারাদেশে মৈনটঘাট একটি অতিপরিচিত পর্যটন এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসতো। করোনা ভাইরাসের কারনে ঘাটে নেই দর্শনার্থী, তাই হোটেলসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পদ্মার ভাঙ্গনে মৈনটঘাটসহ আশে পাশে কৃষিজমি ও গ্রামের অংশ নদীতে বিলিন হচ্ছে। ফলে দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নবাসীর ভাঙ্গন আতংক যেন পিছু ছাড়ছে না। ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই মৈনট ঘাটসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম দ্রুত পদ্মার পেটে চলে যাবে বলে জানান তিনি। এর ফলে সরকার বছরে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।
পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়ে আমাদের দপ্তর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন তৈরী করে পাঠিয়েছি।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন